Tista Tv
     

তিস্তা টেলিভিশন ও তিস্তা নিউজ বিডিতে দেশের সকল জেলা উপজেলা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। উদ্যোমী পরিশ্রমী সৎ নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক, যিনি সৃজনশীল মনন ও মানসে লালিত এবং বাঙালি জাতিসত্তা ও জাতীয় চেতনায় সদাজাগ্রত এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ ও প্রেরণায় উজ্জীবিত, এমন প্রগতিশীল ভাব ও ভাবনায় দীক্ষিত সংবাদকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীদের সর্বনিম্ন এক বছরের অভিজ্ঞতা ও কর্মষ্ঠ হতে হবে। যে কোনো বিষয়ে নূন্যতম স্নাতক অথবা স্নাতক অধ্যয়নরত হতে হবে। ইংরেজি সাংবাদিকতা বা গণযোগাযোগে স্নাতক অথবা অধ্যয়নরত প্রার্থীরা অধিকতর গুরুত্ব পাবেন। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন। যোগাযোগঃ +8801740983512 (হটলাইন)

হাবিপ্রবিতে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বহিষ্কার

| 18-02-2020 | 93 পরিদর্শন
মোঃ মঈন উদ্দীন চিশতী, দিনাজপুরঃ   
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক সহকারী অধ্যাপককে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের বিভাগের শিক্ষক ড. মো. রমজান আলীর বিরুদ্ধে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম রিজেন্ট বোর্ডে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর আগে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই ওই বিভাগের এক ছাত্রী তার মাস্টার্স প্রোগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. রমজান আলীর বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রার এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন বরাবর যৌন হয়রানির একটি  অভিযোগ করেন।
 লিখিত অভিযোগে মাধ্যমে ওই ছাত্রী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আমাকে প্রায়ই তার বাসায় যেতে বলেন। একবার তিনি আমাকে গবেষণা কাজের জন্য একটা নমুনা বীজ সংগ্রহ করতে বলেন। আমি ঝিনাইদহের এক ব্যবসায়ীর খোঁজ তাঁকে দিই। তিনি আমাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে এক সঙ্গে থাকার প্রস্তাব দেন। আমি অনাগ্রহ প্রকাশ করি। কিছুদিন ধরে কয়েক দফায় তিনি আমাকে খাতা দেখার জন্য ও গবেষণাপত্র লেখার জন্য তার বাসায় যাওয়ার জন্য জোর করেন। ওই শিক্ষক আমাকে বলেন, গবেষণার কাজ বাসাতেই করতে হবে। এর জন্য নিরিবিলি পরিবেশ দরকার। অনেক সময় তোমাকে আমার সঙ্গে বাইরে যেতে হবে।একপর্যায়ে ওই শিক্ষক আমাকে কুপ্রস্তাব দেন।
ওই ছাত্রী আরও অভিযোগ করেন, তার এমন প্রস্তাবে রাজি না হলে ডা. রমজান আলী প্রপোজাল জমা দেওয়ার অসহযোগিতাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে একই বছরের ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যানসহ ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ৩১ জুলাই তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটি তাদের প্রতিবেদনে মো. রমজান আলী এক ছাত্রীকে অনৈতিক কাজে চাপ প্রয়োগ করার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শিক্ষক রমজান আলীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে।
সুপারিশের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে রমজান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিললেও শুধু সতর্ক করে দিয়ে এক বছর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সে সময় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল আলমের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে এযাবৎ যতগুলো ঘটনা ঘটেছে সব গুলোই মানসিক নির্যাতন। কোনোটাই যৌন হয়রানি নয়।
এর কয়েক মাস পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইউটিউবে ২৩ মিনিটের একটি অডিও ভাইরাল হয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আবারও সমালোচনার ঝড় ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়সহ দিনাজপুরে। ৪টি খণ্ডের ওই অডিওতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ওই সময় থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক রমজান আলীকে স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে বিভিন্ন নারী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলন করে আসছিল। এছাড়াও গৃহকর্মীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগ আছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী যৌতুক আইনে মামলা করেছিলেন।
এ বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ডের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যৌন হয়রানির অভিযোগে আজকে (শনিবার) শিক্ষক রমজান আলীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। যেহেতু আজকে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ জন্য এখনো চিঠি যায়নি। এক দুই দিনের মধ্যেই ওই শিক্ষকের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে চিঠি যাবে।