Tista Tv
     

তিস্তা টেলিভিশন ও তিস্তা নিউজ বিডিতে দেশের সকল জেলা উপজেলা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। উদ্যোমী পরিশ্রমী সৎ নির্ভীক ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক, যিনি সৃজনশীল মনন ও মানসে লালিত এবং বাঙালি জাতিসত্তা ও জাতীয় চেতনায় সদাজাগ্রত এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের আদর্শ ও প্রেরণায় উজ্জীবিত, এমন প্রগতিশীল ভাব ও ভাবনায় দীক্ষিত সংবাদকর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীদের সর্বনিম্ন এক বছরের অভিজ্ঞতা ও কর্মষ্ঠ হতে হবে। যে কোনো বিষয়ে নূন্যতম স্নাতক অথবা স্নাতক অধ্যয়নরত হতে হবে। ইংরেজি সাংবাদিকতা বা গণযোগাযোগে স্নাতক অথবা অধ্যয়নরত প্রার্থীরা অধিকতর গুরুত্ব পাবেন। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন। যোগাযোগঃ +8801740983512 (হটলাইন)

অপ্রিয় সত্য-৩

| 08-12-2019 | 105 পরিদর্শন

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ,

অনেকেই ইনবক্সে জানতে চেয়েছেন, আমার মা-ভাইয়ের করা প্রেস কনফারেন্সে তারা দাবী করেছেন যে আমি নাকি ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে তাদের নিয়মিত হয়রানি করতাম। কথাটা কতটুকু সত্যি? আমার ভাই ২০১৭ সালের ২রা মার্চ তারিখে আমাকে যে উচ্ছেদের নোটিশ পাঠাল সেখানে কোথাও কিন্তু বলা নেই যে আমি তাদেরকে ভয়ভীতি বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছি তার আগে। আপনারা খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন যে সেখানে বরং লেখা আছে, “Thank You For Your Company” অর্থাৎ “তোমার সাহচর্যের জন্য ধন্যবাদ”। তাহলে ক্ষমতার দাপট যদি দেখিয়ে থাকি তা ২০১৭ সালের ২রা মার্চ তারিখের পরই হতে হবে। আমার ভাইয়ের কাছে তার ইমেইলের উত্তর যখন পাঠালাম তখন ২০১৭ সালের ২রা মার্চ তারিখ প্রায় দুপুর একটা বাজে। আমার সেদিন সদরঘাট থেকে লঞ্চ ধরে বরিশাল যাওয়ার কথা। ‘বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ’ তাদের তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে সাত দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে (৩রা এপ্রিল ২০১৭) আমাকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আমার ট্রাইব্যুনাল অফিস থেকে দুই দিন আগেই (২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭) সব ব্যাবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে আমার যাতায়াত, অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে দাপ্তরিক চিঠি প্রদান করেছিল। সেই অনুসারে সেদিনই আমাকে বিকেল পাঁচটায় উত্তরার বাস ভবন থেকে রওনা হওয়ার কথা। তার মানে আমার মা-ভাইয়ের উচ্ছেদ নোটিশ পাওয়ার পর আমার হাতে ছিল মাত্র চার ঘন্টা। মন সায় দিচ্ছিল না বরিশাল যেতে। সুমেধাকে ঢাকাতে উত্তরার বাড়িতে একা রেখে দু দিনের জন্য বরিশাল যেতে ভীষণ ভয় করছিল। বাড়ীতে আমি থাকব না। যদি কোন অঘটন ঘটে! বাড়িতে থাকবে আর দুজন – লতা আর হাওয়া। দুজনই মহিলা মানুষ। ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। প্রথমে ভাবলাম যাবো না। আয়োজকদের ফোন দিলাম নিজের অসুস্থতার কথা বলে। তারা অনেক অনুরোধ করলেন। শেষে সিদ্ধান্ত নিলাম, যদি যেতেই হয় তবে উত্তরা থানায় একটা জিডি করে যাই। হাতে সময়ও কম। উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করলাম। জিডি নং- ৯১ তাং ০২/০৩/১৭। নিজের আর সন্তানের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করাকে কি ক্ষমতার দাপট দেখানো বলে? নাগরিক হিসেবে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার কি আমার নেই? নাকি আমি অধিকার চাইতে গেলেই সেটা ক্ষমতার দাপট দেখানো বলা হবে? আমি বরিশালে গেলাম, অনুষ্ঠানে হাজির হলাম, বক্তৃতা দিলাম। পত্রিকায় রিপোর্টও বের হোল। কাউকে বুঝতে দিলাম না আমার ভিতর কি ঝড় চলছিল! কতটা কষ্ট পেয়েছিলাম কাউকে বোঝাতে পারিনি। বাবা মারা যাওয়ার ৫৮ দিনের মধ্যে আমার বাসস্থান থেকে আমার মা-ভাই আমাকে বের হয়ে যেতে বলবে এটা আমার এখনও ভাবতে বুক ফেটে যায়। কি করে পারলো তারা? শুধুই সম্পত্তির জন্য এত অমানুষ কেউ হতে পারে? আর আজকে তারাই অভিযোগ তুলছে যে আমি নাকি আমার মাকে আমার বাবা মারা যাওয়ার ৫৮ দিন পর উত্তরার বাড়ি থেকে মারধোর করে বের করে দিয়েছি! আর সেজন্য পুরো দেশ আমাকে নোংরা ভাষায় গালি দিয়ে চলেছে! আমি এতদিন চুপ থেকেছি, কিন্তু আমার মা কিভাবে কবে উত্তরার বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলেন সে কথাও আপনাদের বলব। আমি নিশ্চিত তা শুনলে আপনারা হতভম্ব হয়ে যাবেন। (চলবে)